Uncategorized

ক্লান্ত হাসি

 

কামাল পারভেজ

প্রচণ্ড গরমে রিকশাওয়ালাকে ভাড়ার চাইতে ৫ টাকা বাড়িয়ে দিয়ে বইলেন,
-মামা এক গ্লাস ঠান্ডা শরবত খেয়ে নিবেন এই টাকা দিয়ে।

‌বিশ্বাস ক‌রেন ! রিকশাওয়ালা মামার চেহারায় ক্লান্তি মাখা মুখে যে হাসি দেখতে পারবেন সেই হাসির দাম লক্ষ টাকার চে‌য়েও দা‌মি ।

literature

“খোলা লোচনে”

মোঃ রকিব হাসান
সেখানে দিন আসে চুপটি করে
লাউপাতার জলে চিকিচিকি খেলা করে রোদ্দুর
স্যাঁতস্যাঁতে উঠানের পাড়
কত অচেনা ডেউ পড়ে আছড়ে বড় অভিমানী ওরা
যায় চলে আর হয়না এ মুখো
একটি মাত্র ঘর, সে আমার সপ্ন খোলা লোচনে।
মাটির দেয়াল
ফোটো টিনের চালায় মিটিমিটি ভোরের হাসি
ধানের গোলায় বিন্দু বিন্দু ভানুর চাহনি
ওরা খেলা করে দিনভর আপন খেয়ালে
ঝিরঝির মেঘের জল গলে আসে আমাদের বিছানায়
মেটে বাসন ভরে উঠে
বারবার আসি ফেলে ছিকল আটা দুয়ারে
তালপাতায় ছাওয়া উনুনের পাড়
তুমার কাচের চুড়ি করে ঝনঝন
উঠানের কোনে ছোট মরিচের চাড়া
পশ্চিমের ক্ষেতের সেবারের ফলা পেয়াজ
গড়াগড়ি খায় আমার পান্তা ফলকে
এ বহু অন্তরালে, সে আমার সপ্ন খোলা লোচনে।
তোমার ভেজা শাড়ির আচলে মুখ লোকায় আমাদের ভালবাসা
দিকবেদীক ছোটাছুটি  তার
ছোট ছোট পা দুখানি
হয়ে উঠে শিল্পিক তুলি
উঠান সে  তার অবুঝ চিত্রপট
কোলাহলের এখানে ছুটি, সে আমার সপ্ন খোলা লোচনে।
ও পাড়ায় খোলা প্রান্তর
বিঘত সলিল তলে আমাদের দু বিঘে মাটি
হলদে-সবুজ ধান
দোল খায় দক্ষিণা সমীরণে
জুড়ায় আমার ঘামে ভেজা চোখ
বুক যায়  ভরে পাকা ধানের গন্ধ মাখান বাতাসে
সকাল গরায় মাথার উপর
আষাঢ়ের কালিক প্রখর অরুণ
ক্লান্ত ঝাপসা নজর সর্পীল আলে
শৈবলিনী ছুঁয়ে আসা হাত্তয়ায় ঘোমটা উড়ায়ে তোমি
বেগুন ভাজা, ডালের বরা, ছোট পুটির ঝোল
ধোয়া উঠা ভাতের থালা
তাল পাতার বাতাসে তৃপ্ত প্রবল আমার প্রাণ
শ্রাবণের আগমনী মেঘেরডাক
বাতাসে বাদলের ভেজা গন্ধ
সাদা বকের ঝাপটানো আর্দ্র পালক
শিওরে দারিয়ে তোমার প্রতীক্ষীত নয়ন
আমি ফিরি
আমার
চেতনে সিক্ত নীড়ে, সে আমার সপ্ন খোলা লোচনে।
কেরোসিনের আলোয় তোমার মাস্টারনীর বাচন
তেল মাখানো বিরই ধানের মুড়ি
মুখে পুড়ে অপলক চেয়ে
শুনি আমাদের আগামীর নিস্বন ধ্বনি
মিশে থাকে কলকলানো নদীজ
উড়ে আশা সন্ধেয় বায়ুখানী
বিলি কেটে যায় তোমার কৌশেয় কাল কেশে
ঝিঝি পোকার পাখায়
গুড় গুড় মেঘ বয়ে আনে রাত
বাকি সংসার যেন নিদ্রিত অতিদূর
তোমার বাহুডোরে – রেশম কোমলতায় ভালবাসা মেশানো প্রেমে- ডুবে রই দুজনে
আসে ঘুম ভরে আঁখি
প্রশান্ত রয় আমাদের জুড়িয়ে উঠা মন
গভীর বাসনায় বসবাস
সে আমার সপ্ন
দিনের খোলা আলো  থেকে  নিকষ অন্ধকার
তন্দ্রা থেকে বেঘোর ঘুমে
আর
সে আমার সপ্ন খোলা লোচনে।
Uncategorized

A Soulmate

SR

A soulmate is someone to whom we feel profoundly connected, as though the communicating and communing that take place between us were not the product of intentional efforts, but rather a divine grace.”
to strengthen each other … to be at one with each other in silent unspeakable memories.” And a soulmate is someone to whom we can’t vent a single word from our, “intentional efforts” even we want. When conversation starts between us, all eyelet of our souls begin to open without our consent & they make a bridge of converse from soul-to-soul. Because ” He created you from a single soul, and from that soul He created his mate (soul mate) that he might dwell in serenity with her.”

Uncategorized

অতৃপ্ত মায়া

মোঃ রকিব হাসান

কোমরের নিচটায় চাপ ধরা আর পেটে চিনচিনে ব্যথায় চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে ওঠে। দিন সাতেক হয় উঠবার শক্তি হারিয়ে গেছে। খুব ভাল করে কান পাতলে দু-ঘর পরের আষাঢ়ে নদীর শব্দ শোনা যায়। একটু আগেই গুরুম গুরুম মেঘ একপশলা বৃষ্টিতে গোবর নেপা উঠান ভিজিয়ে গেছে। টিনের চালের পানি উঠানের নালা উপচে যাওয়ায় খান্ত দিয়েছে। আজ মনে হয় তুরাগ আরও ফুলে উঠেছে। খুব ইচ্ছে হচ্ছে পূর্ব দিকের নদীর ধারের লাউ গাছের মাচার পাশে গিয়ে দাড়াতে। শেষবার পানি পার ছুই ছুই করছিলো। এতদিনে ডুবে যাওয়ার কথা। শিমূল গাছের বড়ো ডাল টা জলে ডুবি ডুবি ছিল। ওটা নিশ্চয়ই এখন দু তিন বিঘত জলের নিচে গা ভিজাচ্ছে। ফুলবানুরও খুব ইচ্ছে হচ্ছে শিমূল ডালের সাথে গা এলিয়ে ভিজে যেতে। পারের অল্প গভীরে বসে গা এলিয়ে দিবে আর দক্ষিণমুখী শ্রুত ওর শরীরে সুরসুরি দিয়ে পালাবে।
আর বুঝি কাশবনে বাতাসের দুলারি দেখা হবেনা, দক্ষিণে হাওয়া এসে শুকনো কাপড় উড়িয়ে নিবেনা, চকের পাকা ধানের ঘ্রাণ নাকে আসবেনা। বুকটা কেমন এক শূন্যতায় ভরে যায়। ৯৪ বছরে ৬ ছেলে মেয়ের ঘরে ১৯ জন নাতি নাতনি। ১২ নাতনি ৭ নাতি। কেয়ামত কাছাকাছি এটাই তার লক্ষণ। তার সামী হাট থেকে ফিরে একদিন বলেছিল – “বুচ্ছস রমিজের মা কেয়ামত আইল বইলা। ব্যাকের বউয়েরি মাইয়া অইতাছে- পোলা অয় আতে গইন্না। একটা পোলা তার লাইগা মাইয়া থাকপ দশ টা, হেরা পোলাগ পাইবার নিগা পিছে পিছে
দৌড় পারব আর তারা যাইয়া উটপ গাছে। হেই সময় এক জুম্বার দিন রইদ উটপ পশ্চিম মুরা থিকা আর সব তুলার নাহাল উইরা অইব শ্যষ।”
ফুলবানুর এইকথা আজ খুবই মনে পরছে। আসলেই কথা ঠিক। তার ছয়জনের তিনজন ছেলে আর তিনজন মেয়ে,সমান সমান। তবে তাদের সন্তানদের মধ্যে মেয়ে বেশি।
গ্রামে এখন সাত দিনে কত কি জেনো ঘটে গিয়েছে।
চলবে…….